কুফর কী ও কাফের কারা
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
কুফর অর্থ কী ,কুফর কাকে বলে ,কত প্রকার ও কী কী এবং
কাফের কারা ?
কুফর কি: আরবী কুফর শব্দের শাব্দিক অর্থ অস্বীকার করা, গোপন করা, ঢেকে রাখা। পারিভাষিক অর্থে তাওহীদের কোন বিষয়কে অন্তরে অবিশ্বাস করা বা মুখে অস্বীকার করা বা কাজে অমান্য করা অর্থাৎ কোন বিষয়ে শিরককে অন্তরে বিশ্বাস করা বা মুখে স্বীকার করা বা কাজে বাস্তবায়ন করার নামই কুফর।
যেমন- কোন ব্যক্তি ঈমানদার বলে দাবী করতে হলে ঈমানে মুফাচ্ছালে
বর্ণিত সাতটি মৌলিক বিষয়কে অবশ্যই তাকে অন্তর থেকে বিশ্বাস করতে হবে।
ঈমানে মুফাচ্ছালে
বর্ণিত মৌলিক বিষয়গুলো হচ্ছে
১) আল্লাহ্ পাকের জাত ও ছিফাত
২) সমস্ত ফেরেস্তা
৩) আসমানি সকল কিতাব
৪) সকল নবী ও রাসূল
৫) আখেরাত বা পরকাল
৬) তাক্বদীর
৭) মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়া।
উল্লেখিত সাতটি বিষয় অন্তর দ্বারা বিশ্বাস করার নাম হলো ঈমান। এর
যে কোন একটি অস্বীকার করাকে কুফর বলা হয়।
শরীয়তের যে কোন বিধানকে না মানা অথবা আমল না করাকে ফাসেক বলে। তবে
শরীয়তের কোন দলিল যেমন- কুরআন পাকের কোন আয়াত অথবা রাসূল (সা.) এর বিশাল হাদিস
ভান্ডার হতে কোন হাদিস বা সুন্নাহকে অস্বীকার করাও কুফরীর অন্তর্ভূক্ত।
শরীয়তের কোন ফরজ ইবাদত যেমন নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, নারী জাতির
পর্দা, সত্যবাদিতা, আমানত ও দিয়ানত ইত্যাদি ইবাদতসমূহ হতে কোন একটিকে অস্বীকার করা
এবং হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল বলে বিশ্বাস করা কুফরী বলে বিবেচিত।
আল্লাহ্ পাকের সত্তা ও ছিফাতের সহিত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য এবং
রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এর প্রতি অথবা তাহার কোন আদর্শ বা সুন্নাতের প্রতি কটাক্য বা
তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য অথবা গালি-গালাজ কিংবা খারাপ মন্তব্যকারী অবশ্যই কাফের বলে গণ্য
হবে।
কুফর কত প্রকারঃ
কুফর দুই প্রকার যথা;
১।কুফরে আকবার (বড় কুফর)
২।কুফরে আসগার (ছোট কুফর)
ক-
এমন কুফর (কুফরে আকবার) যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়, ইহা পাঁচ প্রকার:
১:
মিথ্যারোপের কুফরি, আল্লাহ বলেন:
﴿ وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّنِ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوۡ كَذَّبَ بِٱلۡحَقِّ لَمَّا جَآءَهُۥٓۚ أَلَيۡسَ فِي جَهَنَّمَ مَثۡوٗى لِّلۡكَٰفِرِينَ ٦٨ ﴾ [العنكبوت: ٦٨]
অর্থাৎ: যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর নিকট হতে আগত
সত্যকে অস্বীকার করে তার চেয়ে অধিক যালিম আর কে হতে পারে? জাহান্নামই কি কাফেরদের
আবাস নয়? [সূরা আনকাবূত ৬৮]
২:
সত্য বলে জানার পরও অহংকার করার কুফরি, আল্লাহ বলেন:
﴿ وَإِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلَٰٓئِكَةِ ٱسۡجُدُواْ لِأٓدَمَ فَسَجَدُوٓاْ إِلَّآ إِبۡلِيسَ أَبَىٰ وَٱسۡتَكۡبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ ٣٤ ﴾ [البقرة: ٣٤]
অর্থাৎ: এবং যখন আমি ফেরেশ্তাগণকে বলেছিলাম যে, তোমরা আদমকে সিজদা কর তখন ইবলিস
ব্যতীত সকলেই সিজদা করেছিল; সে অগ্রাহ্য করল ও অহঙ্কার করল এবং কাফেরদের
অন্তর্ভুক্ত হল। [সূরা বাকারা ৩৪]
৩:
সন্দেহের কুফরি, আর এটি হচ্ছে খারাপ ধারণা করা। আল্লাহ বলেন:
﴿ وَدَخَلَ جَنَّتَهُۥ وَهُوَ ظَالِمٞ لِّنَفۡسِهِۦ قَالَ مَآ أَظُنُّ أَن تَبِيدَ هَٰذِهِۦٓ أَبَدٗا ٣٥ وَمَآ أَظُنُّ ٱلسَّاعَةَ قَآئِمَةٗ وَلَئِن رُّدِدتُّ إِلَىٰ رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيۡرٗا مِّنۡهَا مُنقَلَبٗا ٣٦ قَالَ لَهُۥ صَاحِبُهُۥ وَهُوَ يُحَاوِرُهُۥٓ أَكَفَرۡتَ بِٱلَّذِي خَلَقَكَ مِن تُرَابٖ ثُمَّ مِن نُّطۡفَةٖ ثُمَّ سَوَّىٰكَ رَجُلٗا ٣٧ ﴾ [الكهف: ٣٥، ٣٧]
অর্থাৎ: এ ভাবে নিজের প্রতি যুলুম করে সে তার উদ্যানে প্রবেশ করল। সে বলল: আমি মনে
করি না যে এটা কখনো ধ্বংস হয়ে যাবে। এবং এটাও মনে করি না যে, কিয়ামত হবে, আর আমি
যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই তবে অবশ্যই আমি ইহা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট
স্থান পাব। তদুত্তরে তার বন্ধু তাকে বলল: তুমি কি তাকে অস্বীকার করছ? যিনি তোমাকে
সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা ও পরে শুক্র হতে এবং তারপর পূর্ণাঙ্গ করেছেন মানুষ্য
আকৃতিতে? [সূরা কাহফ ৩৫-৩৭]
৪:
প্রত্যাখ্যান করার কুফরি, এর দলীল হিসেবে আল্লাহ বলেন:
﴿ وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ عَمَّآ أُنذِرُواْ مُعۡرِضُونَ ٣ ﴾ [الاحقاف: ٣]
অর্থাৎ: আর যারা কাফের তাদেরকে যা থেকে সতর্ক করা হয়েছে তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে
নেয়। [সূরা আহকাফ ৩]
৫:
নেফাকী কুফরি, এর দলীল হিসেবে আল্লাহ বলেন:
﴿ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ ءَامَنُواْ ثُمَّ كَفَرُواْ فَطُبِعَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمۡ فَهُمۡ لَا يَفۡقَهُونَ ٣ ﴾ [المنافقون: ٣]
অর্থাৎ: এটা এ জন্যে যে, তারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে ফলে তাদের অন্তরে মোহর
মেরে দেওয়া হয়েছে, পরিণামে তারা বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। [সূরা মুনাফিকূন ৩]
খ- ছোট কুফরি(কুফরে আসগার) , এর দ্বারা ইসলাম
থেকে বের
হবে না।
আর এটি হচ্ছে নেয়ামতের অস্বীকার বা কুফরি।এর দলীল হিসেবে
আল্লাহ বলেন:
﴿ وَضَرَبَ ٱللَّهُ مَثَلٗا قَرۡيَةٗ كَانَتۡ ءَامِنَةٗ مُّطۡمَئِنَّةٗ يَأۡتِيهَا رِزۡقُهَا رَغَدٗا مِّن كُلِّ مَكَانٖ فَكَفَرَتۡ بِأَنۡعُمِ ٱللَّهِ فَأَذَٰقَهَا ٱللَّهُ لِبَاسَ ٱلۡجُوعِ وَٱلۡخَوۡفِ بِمَا كَانُواْ يَصۡنَعُونَ ١١٢ ﴾ [النحل: ١١٢]
অর্থাৎ: আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এক জনপদের; যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিত, যেখানে
সর্বদিক থেকে প্রচুর জীবনোপকরণ আসতো; অতঃপর তারা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করল ফলে
তারা যা করত তজ্জন্যে তাদেরকে আল্লাহ ক্ষুধা ও ভীতির আচ্ছাদনের স্বাদ গ্রহন
করালেন। [সূরা নাহল ১১২]
তিনি
আরও বলেন:
﴿إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَظَلُومٞ كَفَّارٞ ٣٤ ﴾ [ابراهيم: ٣٤]
অর্থাৎ: নিশ্চয়ই মানুষ অতি মাত্রায় যালিম অকৃতজ্ঞ। [সূরা ইব্রাহীম ৩৪]
কাফের কারা
যে ব্যক্তি
তাওহীদের কোন বিষয়কে অন্তরে অবিশ্বাস করে বা মুখে অস্বীকার করে বা কাজে অবাস্তবায়ন
করে অর্থাৎ কোন বিষয়ে শিরককে অন্তরে বিশ্বাস করে বা মুখে স্বীকার করে বা কাজে
বাস্তবায়ন করে সেই কাফির। উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তি কাজেকর্মে কোন বিষয় অমান্য
করলে অর্থাৎ আল্লাহর কোন আদেশ বা ফরয বিধান পালন না করলে অথবা কোন নিষেধ বা হারাম
কাজকে বর্জন না করলে কাফির হবে না যদি না তাতে শিরক হয়। তবে সালাত এর ব্যতিক্রম।
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে তবে সে কাফির হয়ে যাবে।
সালাত ত্যাগ করা ছাড়া আল্লাহর অন্য কোন হুকুম অমান্য করলে ব্যক্তি
ফাসিক হবে কাফির নয় যদি না তাতে শিরক হয়। শিরক করলে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে এবং
তাকে তওবা করতে হবে এবং নতুন করে কালিমা শাহাদাত পাঠ করতে হবে অর্থাৎ নতুন করে
ইসলাম গ্রহণ করতে হবে।
আল্লাহ আমাদের
কুফরি থেকে বিরত থাকার তাওফিক দিন এবং ইসলামের পথে থাকার তাওফিক দিন ।আমীন.
Alhumdulillah. upokritw holam.
ReplyDelete👍👏👏
ReplyDelete